পঞ্চতত্বই কি শিব?
#পঞ্চব্রহ্ম (পঞ্চত্বরূপ শিব) ~
শিবের পাঁচটি প্রধান রূপ :
“পঞ্চব্রহ্মময়ং রূপং পঞ্চতত্ত্বস্বরূপধৃক।
সৃষ্টিস্থিতিলয়ক্রিয়ায়োঃ কর্তারমহমীশ্বরম্॥”
শিবের পাঁচটি প্রধান রূপ (পঞ্চব্রহ্ম) হিন্দু শাস্ত্র মতে তাঁর পঞ্চমুখী বা পঞ্চত্ব ভাবনার প্রতীক। এই পাঁচটি রূপ দ্বারা ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, রক্ষা, সংহার, তিরোভাব (লীলাময় গোপনতা), এবং অনুগ্ৰহ প্রকাশ পায়।
শিবের পঞ্চত্ব তত্ত্ব এই বিশ্বসৃষ্টির পঞ্চতত্ত্ব (ভূ, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ)-এর সঙ্গে অভিন্ন। এই পঞ্চ রূপে পরমশিব পঞ্চভূতে প্রবিষ্ট হয়ে সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার, তিরোভাব ও অনুগ্ৰহ কার্য করেন।
#শিবের_পঞ্চব্রহ্মরূপ :
নিচে শিবের এই পাঁচ রূপ ও তাদের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো –
১. তৎপুরুষ (স্থিতি)
২. অঘোর (সংহার)
৩. বামদেব (রক্ষা)
৪. সদ্যোজাত (সৃষ্টি)
৫. ঈশান (মোক্ষ ও জ্ঞান)
১. #শ্রীতৎপুরুষ_তত্ত্ব (পূর্বদিকস্থ শিবমুখ) :
“তৎ” মানে “সেই”, আর “পুরুষ” মানে “সত্তা” বা “স্বরূপ”।
অতএব তৎপুরুষ মানে — “সেই পরমপুরুষ” — যিনি নিরাকার, নির্গুণ, পরব্রহ্মরূপ শিব।
এই রূপে শিব আত্মানন্দ, ধ্যানময়, প্রাণরূপী। তিনি সমগ্র জীবলোকে প্রবিষ্ট, জীবের বুদ্ধি ও প্রাণতত্ত্বে বিরাজ করেন।
তৎপুরুষ আটটি বর্ণ (আ, ক, চ, ত, থা, পা, য, স) বিশিষ্ট এবং আট পাপড়ি বিশিষ্ট পদ্মে থাকেন এবং সাধারণত বায়ু, পাঁচটি অগ্নি দ্বারা বেষ্টিত থাকেন , যিনি মন্ত্র শক্তির নেতা, এবং যার পঞ্চাশটি বর্ণ এবং তাদের স্বরলিপি এবং অথর্ববেদ–এ রয়েছে। তিনি কোটি কোটি গণের (মৌলিক) প্রধান এবং যার দেহ সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। তাঁর রঙ লাল – যা কাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদান করে। তিনি সকল ধরণের রোগের ঔষধ, সৃষ্টি, সংরক্ষণ এবং ধ্বংস ইত্যাদির কারণ এবং সমস্ত শক্তির অধিকারী। তিনি চেতনার তিনটি অবস্থা, চতুর্থ (তুরীয়), এবং অস্তিত্ব, চেতনা এবং আনন্দের ঊর্ধ্বে, ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং অন্যান্যদের দ্বারা তাঁর উপাসনা করা হয়, এবং সকলের পরম পিতা।
স্থিতি: পূর্বদিকে
তত্ত্ব: বায়ু (প্রাণতত্ত্ব)
কার্য: তিরোভাব (লীলাময়তা, গোপনতা)
রূপ: গৌরবর্ণ, ধ্যানস্থ, জপমালা ও গ্রন্থপাণি, কমলাসনে আসীন
#তৎপুরুষ_গায়ত্রী_মন্ত্র:
ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।
#মন্ত্রের_অর্থ :
আমরা তৎপুরুষ মহাদেবকে জানি, তাঁকে ধ্যান করি। সেই রুদ্র আমাদের অন্তরকে জ্ঞান ও ধ্যানের দ্বারা জাগ্রত করুন।
#তৎপুরুষ_ধ্যানমন্ত্র :
পুর্বে মুখে শান্তিময়ং প্রভাতং গৌরং স্থূলং মৃগমুদ্গরধারিণং।
সুমন্দহাসং বদনং ত্রিনেত্রং তং তৎপুরুষং শরণং প্রপদ্যে॥
অর্থ: পূর্বমুখী, শান্তিময়, গৌরবর্ণ, বিশাল দেহ, হরিণচর্ম পরিহিত, হাতে মুদ্রা ও দণ্ড, ত্রিনয়নধারী, মৃদু হাস্যময় সেই তৎপুরুষ শিবকে আমি শরণাগত হচ্ছি।
#তত্ত্বভাবনা (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):
তৎপুরুষ শিব হলেন ধ্যানময় শিব, যিনি আত্মা ও শরীরের প্রাণতত্ত্বকে ধারণ করেন। তিনি বুদ্ধির জ্যোতি ও ধ্যানের স্থিরতা, যিনি যোগ ও তপস্যার অধিষ্ঠাতা।এই রূপে শিব ধ্যানী, যোগী, ব্রহ্মজ্ঞ।
হে তৎপুরুষ মহাদেব, আমার অন্তরে ধ্যান, জ্ঞান ও সত্তার শুদ্ধতা দান করুন। শুদ্ধপ্রাণে আপনাকে নিবেদন করি।
২. #শ্রীঅঘোর_তত্ত্ব (দক্ষিণমুখী শিবরূপ) :
অঘোর — রুদ্রের করাল তত্ত্ব। “ঘোর” মানে ভয়ঙ্কর, “অঘোর” মানে যিনি ভয়ঙ্কর নন — অথচ তিনি ঘোরতত্ত্বের মধ্যেও করুণা। অঘোররূপ শিব হলেন সংহারকারী, কিন্তু তা পুনর্জন্ম ও মোক্ষের পথ উন্মোচনের জন্য। তিনি অগ্নিতত্ত্বাধিষ্ঠান, ভস্ম, শ্মশান ও যোগসাধনার তত্ত্বরূপ।
অঘোর, যা সকল পাপ ধ্বংস করে, যা অশুভকে শান্ত করে এবং যা সকল সমৃদ্ধি প্রদান করে, জল, চন্দ্র, গৌরী, যজুর্বেদ, মেঘ, রঙ, সন্দ্রস্বর, দক্ষিণাগ্নি, পঞ্চাশ অক্ষর বিশিষ্ট মন্ত্র, সুরক্ষা এবং ইচ্ছাশক্তি।
স্থিতি: দক্ষিণদিক
তত্ত্ব: অগ্নি
কার্য: সংহার
রূপ: কৃষ্ণবর্ণ, উগ্রদৃষ্টি, ত্রিনয়ন, খড়্গ ও পিণ্ডপাণি, ভস্মলেপিত, শ্মশানবাসী।
#অঘোর_গায়ত্রী_মন্ত্র:
ওঁ অঘোরায় বিদ্মহে রৌদ্ররূপায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।
#মন্ত্রের_অর্থ :
আমরা অঘোর রুদ্ররূপ শিবকে জানি ও ধ্যান করি। সেই রুদ্র আমাদের চেতনা জাগ্রত করুন।
#অঘোর_ধ্যানমন্ত্র :
দক্ষিণে অঘোররূপং ত্রিনয়নং করালবদনং।
ভস্মাঙ্গলেপনং রৌদ্রং খড়্গপাশধরং ভজেত্॥
অর্থ: দক্ষিণমুখী, ত্রিনয়নধারী, উগ্র মুখবিশিষ্ট, ভস্মলেপিত, রৌদ্ররূপ, খড়্গ ও পিণ্ড ধারণকারী অঘোররূপ শিবকে ধ্যান করো।
#তত্ত্বভাবনা (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):
অঘোর রূপের সংহারতা হ’লেন অজ্ঞানের সংহারক। তিনি বহির্জগতের মোহ, কাম, ক্রোধের দাহ করে আত্মজ্ঞানের অগ্নি জ্বালান। তিনি শ্মশানের বাসিন্দা — অর্থাৎ মায়া-মোহ-মৃত্যুর সীমারেখার বাহিরে।
হে অঘোর মহাদেব, আমার অন্তরের অন্ধকার, দ্বৈতবোধ ও কামের আগুনকে নিঃশেষ করুন। আপনি দহন করুন সকল অশুভ প্রবৃত্তি। শুদ্ধ চিত্তে আপনাকে প্রণাম।
৩. #শ্রীবামদেব_তত্ত্ব (উত্তরমুখী শিবরূপ) :
“বাম” মানে বাঁ দিকে অবস্থিত এবং “দেব” মানে দয়ালু দেবতা। বামদেব রূপে শিব হলেন শান্ত, রক্ষক ও কল্যাণময় তত্ত্ব। এই রূপে তিনি জলতত্ত্বাধিষ্ঠান এবং জীবলোকে প্রেম, দয়া, অভয় বিস্তার করেন।
বামদেব, যিনি মহান জ্ঞান প্রদান করেন, অগ্নি, বিদ্যাকাল, সামবেদ, আট স্বর বিশিষ্ট স্বর, ধীরস্বর (মহিমান্বিত শব্দ), অহবন্ত্য অগ্নি, জ্ঞান ও লয় শক্তি এবং অন্ধকার মিশ্রিত সাদা রঙ। যার উজ্জ্বলতা কোটি সূর্যের সমান, তিনি পূর্ণ চেতনার অধিকারী এবং তিন অবস্থার (চেতনার) নেতা। তিনি চেতনার তিন অবস্থায় থাকা মানুষকে সকল কর্মের ফল বণ্টন করেন এবং তাদের সকলকে সকল উন্নতি দান করেন। যার মন্ত্র আট অক্ষর বিশিষ্ট, তিনি আট পাপড়ি বিশিষ্ট পদ্মের (হৃদয়ের) কেন্দ্রে থাকেন।
স্থিতি: উত্তরদিক
তত্ত্ব: জল
কার্য: রক্ষা
রূপ: শ্যামবর্ণ, কোমল মুখমণ্ডল, অভয় ও বরমুদ্রাযুক্ত, চার মুখবিশিষ্ট, কৃপাস্বরূপী।
বামদেব গায়ত্রী মন্ত্র: ওঁ বামদেবায় বিদ্মহে রক্ষকায় ধীমহি তন্নো শিবঃ প্রচোদয়াৎ।
#মন্ত্রের_অর্থ : আমরা বামদেব রক্ষাকর্তা শিবকে জানি ও ধ্যান করি। সেই শিব আমাদের চেতনাকে রক্ষা ও জ্ঞানপ্রদানে উদ্দীপ্ত করুন।
#বামদেব_ধ্যান :
উত্তরদিশি বামদেবং কোমলবদনং প্রপন্নবৎসলং।
চতুর্মুখং শান্তময়ং ত্রিনয়নং ভজেত্ শিবং॥
অর্থ: উত্তরদিকে স্থিত, কোমল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, শরণাগতপ্রেমী, চতুর্মুখ ও ত্রিনয়ন শিব, যিনি শান্তিময় – তাঁকে ধ্যান করো।
#তত্ত্বভাবনা (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):
বামদেব রূপে শিব হলেন জগতের হৃদয়স্পর্শী মুখ। তাঁর ত্রিনয়ন সমঝ, দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টি নিয়ে জগৎকে রক্ষা করেন। জীবসত্তার “স্নেহতত্ত্ব” অর্থাৎ দয়া, প্রেম, কল্যাণ – সবই তাঁর অনুগ্রহতুল্য।
হে বামদেব শিব, আপনি আমার চেতনার রক্ষা করুন। অভয় দিন, শান্তি দিন, কল্যাণ দান করুন। আপনিই আমার প্রিয়, আপনি পরম আশ্রয়।
৪. #শ্রীসদ্যোজাত_তত্ত্ব (পশ্চিমমুখী রূপ, সৃষ্টিতত্ত্বর দেবতা) :
সদ্যঃ + জাত — সদ্য জন্মেছেন, সদ্য প্রকাশিত হয়েছেন।
এই রূপে শিবই সৃষ্টির আধার, সত্তার আদিপ্রকাশ।
সদ্যোজাত রূপে তিনি ব্রহ্মা, সৃষ্টিকর্তা, প্রাণরূপ, এবং আলোকবিকাশ।
সকল কাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদানকারী সদ্যোজতা হলেন পৃথিবী, পুষ (সূর্য), লক্ষ্মী, ব্রহ্মা, ত্রিবৃৎস্বর (ধ্বনি), ঋগ্বেদ, গার্হপত্য অগ্নি, সাত স্বর বিশিষ্ট মন্ত্র, হলুদ রঙ এবং ক্রিয়াশক্তি।
স্থিতি: পশ্চিমদিক
তত্ত্ব: ভূমি
কার্য: সৃষ্টি
রূপ: বর্ণধ্বজা, সাদা রূপ, পঞ্চবক্ত্র, চতুর্ভুজ, অমল হাস্য, শ্বেতপুষ্পাভিষিক্ত।
#সদ্যোজাত_গায়ত্রী_মন্ত্র:
ওঁ সদ্যোজাতায় বিদ্মহে ব্রহ্মরূপায় ধীমহি তন্নো শিবঃ প্রচোদয়াৎ।
#মন্ত্রের_অর্থ :
আমরা সদ্যোজাত ব্রহ্মরূপ শিবকে জানি ও ধ্যান করি। সেই শিব আমাদের জ্ঞান, সৃষ্টিশক্তি ও শুভবুদ্ধি দান করুন।
#সদ্যোজাত_ধ্যান :
পশ্চিমে সদ্যোজাতং সুশুভ্রবর্ণং পঞ্চবক্ত্রং চতুর্ভুজং।
সদানন্দং সৃজনকর্তারং শিবং ভজেত্ শান্তময়ং প্রভুম্॥
অর্থ: পশ্চিমমুখী সদ্যোজাত শিব, শ্বেতবর্ণ, পঞ্চবক্ত্র, চতুর্ভুজ, সর্বদা আনন্দময়, সৃষ্টির কর্তা, শান্তিপূর্ণ প্রভু — তাঁকে ধ্যান করো।
#তত্ত্বভাবনা (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):
সদ্যোজাত রূপে শিব হলেন সৃষ্টির সূচক তত্ত্ব। জীব যখন আত্মজিজ্ঞাসা শুরু করে, তখনই শিব সদ্য-প্রকাশিত হন তার অন্তরে। এই রূপে তিনি চেতনার সূর্য, জ্ঞানপ্রদীপ।
হে সদ্যোজাত শিব, আমাতে নতুন জীবন, নতুন আলো, নতুন সৃষ্টি ও দৃষ্টিভঙ্গি উদিত করুন। আপনি হোন চেতনার সূর্য ও মোক্ষের পাথেয়।
৫. #শ্রীঈশান_তত্ত্ব (ঊর্ধ্বমুখী শিব, পঞ্চব্রহ্মত্মতত্ত্বের পরমরূপ) :
“ঈশ” অর্থে প্রভু, “ঈশান” মানে যিনি সর্বত্র প্রভু, যিনি উত্তরণ করান। ঈশান রূপে শিব হলেন পঞ্চতত্ত্বের ঐক্য, চৈতন্যের চূড়া, জ্ঞান ও মোক্ষের স্বরূপ। এই রূপেই তিনি ঈশ্বর, গুরু, এবং ব্রহ্ম ও অ-ব্রহ্ম উভয়ের অতীত।
ঈশানকে পরম শাসক এবং বুদ্ধির সাক্ষী হিসাবে জানা উচিত। তিনি অব্যক্ত আকাশ, এবং ‘ওঙ্কারশ্বর’ দ্বারা উপাসনা করা উচিত। তিনি সমস্ত দেবতা, শান্ত, এবং শান্ততার ঊর্ধ্বে, এবং ‘স্বর’ এর বাইরে। তিনি ‘অ’ এবং অন্যান্য স্বরের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা, এবং যার দেহ স্বয়ং আকাশ। তিনি পঞ্চ ব্রাহ্মণের মহান রূপে পাঁচটি কার্যের কারণ। তিনি (বিলুপ্তির সময়) পঞ্চ ব্রাহ্মণকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং নিজের মায়ার সমস্ত প্রকাশকে নিজের মধ্যে শোষণ করার পরেও থাকেন। তিনি পঞ্চ ব্রাহ্মণকে অতিক্রম করে নিজের মহিমা দিয়ে আলোকিত হন। তিনি অন্য কারও উপর নির্ভর না করে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে নিজের মধ্যে আলোকিত হন।
স্থিতি: ঊর্ধ্ব (উপরের দিক)
তত্ত্ব: আকাশ
কার্য: অনুগ্রহ ও মোক্ষদান
রূপ: শুদ্ধস্ফটিকবৎ, পঞ্চবক্ত্র, দশ বাহু, ত্রিনয়ন, চন্দ্রকলাধারী, সর্বরূপময়।
#ঈশান_গায়ত্রী_মন্ত্র:
ওঁ ঈশানায় বিদ্মহে তত্বরূপায়/ জ্ঞানরূপায় ধীমহি তন্নো ঈশানঃ প্রচোদয়াৎ।
#মন্ত্রের_অর্থ :
আমরা ঈশ্বরস্বরূপ মহাদেব শিবকে জানি ও ধ্যান করি। সেই রুদ্র আমাদের চৈতন্য, মোক্ষ ও সত্যের দিকে প্রেরণা দিন।
#ঈশান_ধ্যান :
ঊর্ধ্বে ঈশানং ত্রিনয়নং দশভুজং শুদ্ধবিগ্রহং।
জ্ঞানস্বরূপং মুক্তিদং চন্দ্রকলাধরং ভজেত্॥
অর্থ: ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী, ত্রিনয়নধারী, দশভুজ, শুদ্ধ মূর্তিসম, জ্ঞানের রূপ, মোক্ষদানকারী, চন্দ্রকলাধারী ঈশান শিবকে ধ্যান করো।
#তত্ত্বভাবনা (আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা):
ঈশান রূপে শিবই পরম চৈতন্য — সমস্ত মুখ ও রূপের মিলন এই রূপে। তাঁর তত্ত্ব “অহং ব্রহ্মাস্মি”-র উদ্ঘোষ। তিনি জ্ঞান, শক্তি ও করুণা — তিনে মিলে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।
হে ঈশান শিব, আপনি আমার চৈতন্যে আলোক প্রজ্জ্বলন করুন। জ্ঞান, নিরহংকারতা ও মোক্ষের পথ উন্মোচন করুন। আপনিই আমার গুরু, দেবতা ও অন্তরের শুদ্ধতম সত্য।
শ্রীগণেশায় নমঃ
শ্রীগুরু শিবায় নমঃ
পঞ্চত্বরূপিণী শিবচৈতন্যায় নমঃ
– তারানাথ তান্ত্রিক